শৈশব থেকেই সুন্নাহর চর্চা নিশ্চিত করতে বেছে নিন TalhaKids ✦ --- উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর ঘরে একটি পর্দা ছিল যাতে ছবি ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তা দেখে বললেন: "কেয়ামতের দিন ঐসব ব্যক্তিদের সবচেয়ে কঠিন আজাব দেওয়া হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির (প্রাণীর) সাদৃশ্য গ্রহণ করে (ছবি বানায়)।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৫৪; সহীহ মুসলিম: ২১০৭) --- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "প্রত্যেক ছবি নির্মাণকারীই জাহান্নামী। সে যতটি ছবি তৈরি করেছে, তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "যদি তোমাকে ছবি বানাতেই হয়, তবে গাছপালা বা এমন বস্তুর ছবি বানাও যাতে প্রাণ নেই।" — (সহীহ বুখারী: ২২২৫; সহীহ মুসলিম: ২১১০) --- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যারা এসব ছবি বা মূর্তি তৈরি করে, কেয়ামতের দিন তাদের আজাব দেওয়া হবে এবং তাদের বলা হবে— তোমরা যা সৃষ্টি করেছিলে (বানিয়েছিলে), এখন তাতে প্রাণ দাও!" — (সহীহ বুখারী: ৫৯৫৩; সহীহ মুসলিম: ২১০৮) --- হযরত আবু তালহা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন: "যে ঘরে কুকুর থাকে এবং (প্রাণীর) ছবি বা মূর্তি থাকে, সেই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।" — (সহীহ বুখারী: ৩২২৫; সহীহ মুসলিম: ২১০৬) --- হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম (অত্যাচারী) আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চায়? যদি তাদের সাধ্য থাকে, তবে তারা একটি কণা বা একটি শস্যদানা অথবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করে দেখাক!" — (সহীহ বুখারী: ৫৯৫৯; সহীহ মুসলিম: ২১১১) --- হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সা.) এক সফর থেকে ফিরে এলেন। ইতিমধ্যে আমি আমার ঘরের একটি তাকে ছবিযুক্ত একটি পাতলা পর্দা ঝুলিয়ে রেখেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সেটি দেখলেন, তখন তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, 'হে আয়েশা! কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সেই সব মানুষের সবচেয়ে কঠিন আজাব হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করে।' আয়েশা (রা.) বলেন, এরপর আমরা সেটি কেটে একটি বা দুটি বালিশের কভার বানিয়ে ফেললাম।" — (সহীহ বুখারী: ৫৯৫৪; সহীহ মুসলিম: ২১০৭) ---
তালহা কিডস
ইসলামিক প্রশ্নোত্তর পোশাক পর্দা বা পোশাকে কোনো কার্টুন বা ছবি থাকলে নামাজ আদ...

পর্দা বা পোশাকে কোনো কার্টুন বা ছবি থাকলে নামাজ আদায় হবে কিনা

উত্তর 06 July, 2026

পর্দা বা পোশাকে কোনো কার্টুন বা ছবি থাকলে নামাজ আদায় হবে কিনা, এই মাসআলার বিষয়ে ইসলামি বিধান জানতে চাওয়া হয়েছে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী, নামাজ একটি ইবাদত যা আল্লাহ তাআলার সামনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ সময় মনোনিবেশ এবং একাগ্রতা বজায় রাখা জরুরি। কার্টুন বা ছবি সম্বলিত কাপড় পরে নামাজ আদায় করলে তা নামাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি ও ফিকাহবিদদের মতামত বিবেচনা করে বলা যায় যে, কার্টুন বা ছবিযুক্ত পোশাকে নামাজ মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা সহীহও হতে পারে।

প্রথমত, নামাজের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাঁর বান্দাদের সম্বোধন করে বলেছেন: “আপনি আপনার প্রভু নামে পবিত্রতা বর্ণনা করুন” (সূরা আল-আ’লা, আয়াত: ১)। যদিও এই আয়াতটি সরাসরি পোশাকের ছবি নিয়ে নয়, তবে এটি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা এবং তাঁর প্রতি একাগ্রচিত্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়। যে পোশাকে এমন ছবি থাকে, যা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে বা তা খেলনাবানর বা জীবজন্তুর ছবি হলে তা সাধারণত মানুষের মনকে পার্থিব বিষয়ের দিকে আকৃষ্ট করে, যা আল্লাহ তাআলার প্রতি মনোনিবেশে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সহীহ হাদিস থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) অনুমোদিত নয় এমন ছবিযুক্ত পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। এক হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ চাদর (খামিলা) দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে নামাজ আদায় করছিলেন, যার উপর মধ্যে মধ্যে কিছু ছবি ছিল। যখন তাঁর নামাজ শেষ হলো, তখন তিনি বললেন, ‘এই খামিলাটি নিয়ে যাও এবং আবু জাহম-এর কাছে পাঠিয়ে দাও। কারণ এর উপরের ছবিগুলো আমাকে নামাজে ব্যতিব্যস্ত করেছিল’।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৩৭৪, ৩৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২১৫১)। এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, যে পোশাকে এমন ছবি থাকে যা নামাজির মনোযোগ বিচ্যুত করে, তাহলে তা ব্যবহার করা অনুপযুক্ত এবং তা বাদ দেওয়াই উত্তম।

তৃতীয়ত, ফিকাহবিদগণ এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। বেশিরভাগ ফিকাহবিদদের মতে, নামাজির পোশাকে যদি এমন ছবি থাকে যা মানুষের মনকে আকৃষ্ট করে, বিশেষত যদি তা খেলনা, জীবজন্তু, বা এমন কোনো মূর্তি হয় যা পূজনীয় হতে পারে, তবে তা নামাজে মাকরূহ হবে। কারণ এটি আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অন্যমনস্কতা সৃষ্টি করে। তবে, যদি ছবিটি এত ছোট, অস্পষ্ট বা এমন প্রকৃতির হয় যা সাধারণত কারো মনোযোগ আকর্ষণ করে না, অথবা যদি পোশাকের পেছনে থাকে এবং নামাজি তা দেখতে না পায়, তবে তা কখনো নামাজের ইবাদতে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। ইমাম নববী (রহ.) তাঁর ‘আল-মাজমূ’ গ্রন্থে এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, যদি পোশাকে জীবের ছবি থাকে যা মানুষ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে (যেমন মাথা ছাড়া শরীর), তবে তা মাকরূহ হবে না। তবে কার্টুনের ছবি সাধারণত সম্পূর্ণ জীবের মতোই হয় এবং তা মনোযোগ চঞ্চল করতে পারে।

চতুর্থত, কার্টুনের চরিত্র গুলো প্রায়শই মানুষ বা অন্যান্য জীবের অবাস্তব প্রতীক হিসেবে তৈরি হয়। যদিও এগুলো প্রকৃত মূর্তি নয়, তবুও কিছু আলিম এগুলোকে রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক নিষিদ্ধ জীবের ছবির অধীনে গণ্য করেন, কারণ এগুলো মনোযোগ চঞ্চল করে এবং অপ্রয়োজনীয় সংস্কৃতিকে প্রসারিত করে। তবে, বেশিরভাগ আলিম মনে করেন যে, যদি কার্টুনের ছবি অত্যন্ত ক্ষুদ্র হয় বা পোশাকের এমন স্থানে থাকে যা নামাজে কোনো রূপ মনোযোগ বিঘ্নিত করে না, তবে নামাজ সহীহ হবে, যদিও তা মাকরূহ হতে পারে। কিন্তু যদি ছবি বড় এবং দৃশ্যমান হয়, যা স্বাভাবিকভাবে খেয়াল আকর্ষণ করে, তবে সাবধানতা স্বরূপ এমন পোশাক পরিহার করাই উত্তম।

উপসংহারে, কার্টুন বা অন্যান্য ছবি সম্বলিত পোশাকে নামাজ আদায় করা হোক না কেন, তা মাকরূহ হওয়াই সম্ভব। বিশেষত যদি ছবি বড় এবং মনোযোগ আকর্ষণকারী হয়। তবে যদি ছবি ক্ষুদ্র বা অস্পষ্ট হয় এবং নামাজির মনোযোগে কোনো রূপ বিঘ্ন না ঘটায়, তাহলে নামাজ সহীহ হবে। তবে একজন মোমিন ব্যক্তি হিসেবে, যা কিছু আল্লাহর ইবাদতে কোনো রূপ সন্দেহ বা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে, তা পরিহার করাই উত্তম। তাই, নিরাপদ ও সেরা পন্থা হলো এমন পোশাক পরিহার করে নামাজ আদায় করা, যাতে এমন কোনো ছবি বা প্রতীক না থাকে যা আল্লাহর কথা স্মরণ করায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে, আর এ মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের পূর্ণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব হয়।

উত্তর দিয়েছেন: Ai
সব প্রশ্নোত্তরে ফিরে যান

আপনার প্রশ্ন আছে?

আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন

প্রশ্ন করুন
AI AI Chat
তালহাকিডস AI
তালহাকিডস AI
সবসময় সাহায্যের জন্য প্রস্তুত
0 Items
0.00
WhatsApp Messenger